
শিশুদের কাছে ডাইনোসর খুবই জনপ্রিয়। আর সিনেমা দেখে অনেক বড়দেরও এই প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর প্রতি আগ্রহ জন্মেছে। বিশেষ করে, 'জুরাসিক পার্ক' সিনেমায় ডাইনোসরকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার চিত্র দেখে অনেকেই কল্পনা করে থাকেন, আসলে কি এটা সম্ভব? বিলুপ্ত প্রাণীকে ফিরিয়ে আনা এখনো সম্ভব হয়নি, তবে বিজ্ঞানীরা এখন নতুন এক পথ খুঁজে পেয়েছেন।
তারা সত্যিকারের ডাইনোসরের মতো দেখতে রোবট তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন! এই রোবটের মাধ্যমে আমরা ডাইনোসরের বিবর্তনের ইতিহাস আরো ভালোভাবে বুঝতে পারব। কল্পনা করুন, আপনি একটা জাদুঘরে গিয়ে দেখছেন, একটা বিশাল টাইরানোসর রেক্স রোবট আপনার সামনে হাঁটছে! কেমন লাগবে?
এই রোবটগুলো শুধু দেখতেই ডাইনোসরের মতো হবে না, এরা হয়তো ডাইনোসরের মতো আওয়াজও করবে এবং হাঁটবে। বিজ্ঞানীরা এই রোবটগুলো তৈরি করে ডাইনোসর সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বাড়াতে চান।
তাহলে বলা যায়, ডাইনোসর হয়তো আর সরাসরি ফিরে আসবে না, তবে রোবটের আকারে আমরা তাদেরকে আবার দেখতে পাব। এটা একদমই নতুন এক অভিজ্ঞতা হবে!
সায়েন্স রোবটিকসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীরা রোবটিকস প্রযুক্তির মাধ্যমে ডাইনোসরসহ বিভিন্ন বিলুপ্ত প্রাণী তৈরির পরিকল্পনা করছেন। বিভিন্ন বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর গতি ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য অনুকরণ করে তৈরি রোবটগুলো এসব প্রাণীর বিবর্তন সম্পর্কে ধারণা দিতে কাজ করবে। বিবর্তনের সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে আমাদের জ্ঞান উন্নত করবে।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী মাইকেল ইশিদা বলেন, ‘আমাদের কাছে অনেক প্রাণীর তথ্য আছে, যারা বিবর্তনের ধারণায় লাখ লাখ বছর আগে হারিয়ে গেছে। যদিও কোডের কয়েকটি লাইন বা একটি নতুন থ্রি–ডি প্রিন্টারের সাহায্যে আমরা সেই লাখ লাখ বছরের বিবর্তনের তথ্য অনুকরণ করতে পারি প্রকৌশলের মাধ্যমে। রোবট তৈরির মাধ্যমে বিবর্তনের নানা তথ্য জানা সহজ হবে। বিজ্ঞানীরা এখন জীবন্ত মাছের অনুকরণে বিলুপ্ত মাছের রোবটিক নকশা তৈরি করছেন।
রোবটের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়ার প্রাণীদের পুনর্গঠনের বিষয়টিকে বিজ্ঞানীরা প্যালিওইনস্পায়ার্ড রোবটিকস হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। গবেষণা নিবন্ধ অনুসারে, ঐতিহ্যগতভাবে জৈবনির্ভর রোবটিকসের গবেষণায় একক কোনো প্রাণীর কিছু বৈশিষ্ট্য প্রতিলিপি করার চেষ্টা করা হয়। বিপরীতভাবে প্যালিওইনস্পায়ার্ড রোবটিকসে একাধিক প্রজাতির গতিবিদ্যা, বায়োমেকানিকস ও শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন অনুযায়ী কাঠামো নির্মাণ করা হয়।
0 Comments